Articles

08

MAR 2020

Health Service System

পৃথিবীর সব দেশেই যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চালু আছে তাতে সরকারের ভূমিকা নীতিনির্ধারক হিসেবে সব জায়গাতেই সমান , কিন্তু বেশিরভাগ দেশেই ব্যবস্থাটা চালছে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগের একটা সংমিশ্রণে । দেশভেদে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নীতি নির্ধারণ বাদে সরকারের ভূমিকার একটা সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা এই লেখার উদ্দেশ্য। সম্পূর্ণ সরকারি কোষাগারের অর্থে চালানো ব্যবস্থা যেখানে মানুষকে তার নিজস্ব পকেট থেকে খরচা করতে হয়না- সেটা একমাত্র আছে কিউবাতে। বাকি প্রায় সমস্ত দেশেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যয় যোগানো হয় মূলত তিনটি উৎস থেকে। প্রথম হচ্ছে সরকারি কোষাগার, দ্বিতীয়তঃ বীমা থেকে, তৃতীয়তঃ সরাসরি মানুষের নিজস্ব রোজগার থেকে। এই বীমা আবার আবার যেমন সরকারি খরচা দিয়ে কেনা হয় তেমনি কোথাও কোথাও আংশিকভাবে জনসাধারণকেও কিছুটা খরচা দিতে হয়। কয়টি প্রতিনিধিত্বকারী ব্যবস্থা আলোচনা করলে বিষয়টা পরিষ্কার হবে। স্বাস্থ্যব্যবস্থা গুলোর তথ্যের সঙ্গে সেই ব্যবস্থায় দেশে স্বাস্থ্যের হাল বুঝতে দুই-একটা জনতাত্ত্বিক সংখ্যাতথ্য মিলিয়ে দেখলে ওই ব্যবস্থায় মানুষের ভালো থাকার মাত্রা সম্পর্কে একটা ধারণা নেওয়া যেতে পারে। সেইজন্যে দেশ হিসেবে বেছে নেয়া হলো আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, ইউ কে, শ্রীলংকা, জাপান, কানাডা, ভারত ও কিউবার কিছু তথ্য। সংখ্যাতত্ত্বের যে হিসেব গুলো এই স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণাটা পরিষ্কার করবে সেগুলো নিয়ে কথা বলে নেওয়া দরকার।জিডিপির কত শতাংশ স্বাস্থ্যের খাতে দেশ খরচা করছে। জিডিপির (gross domestic product) অর্থ হলো দেশের অভ্যন্তরে মোট কত উৎপাদন হল বছরে। সরকারের নাগরিকদের মাথাপিছু কত খরচা হচ্ছে বছরে। আরো যে তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখতে হবে তারমধ্যে আছে -কতজন মানুষের জন্য একটি হাসপাতালের শয্যা আছে ঐ ব্যবস্থায়, স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে মানুষকে নিজের পকেট থেকে কত খরচা করতে হয় ইত্যাদি। এর পাশাপাশি ব্যবস্থাটা কার্যকারিতার একটা ধারণা তৈরি করতে আমরা দেখে নিতে পারি ওই দেশের গড় আয়ু কত, কারণ চিকিৎসার উপায় যত দুর্লভ এবং নীচুমানের হবে ততই মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা বাড়বে। আর দেখতে পারি এক বছর বয়সের মধ্যে শিশু মৃত্যু-হার।

দেশ

স্বাস্থ্যে সরকারের খরচ জিডিপি%

মাথাপিছু খরচা স্বাস্থ্যে 

(ইউ এস ডলারে)

চিকিৎসা পেতে প্রতি ব্যক্তির নিজস্ব ব্যায়

(ইউ এস ডলারে)

শয্যা পিছু মানুষের সংখ্যা

মানুষের গড় আয়ু

জন্মেরএক বছরের মধ্যে শিশু মৃত্যুর হার

প্রতি ১০০০০জনসংখ্যা পিছু ডাক্তারের সংখ্যা

ইউ এস এ 

১৭

৯৮৭০

১০৯৪

৩৪৫

৭৭.৮

২৬

ইউ কে

১০

৩৯৫৮

৫৯৮

৩৫৭

৮১.২

২৮

শ্রীলংকা

১৫৩

৭৭

২৭৮

৭৪.৯

১০

জাপান

১১

৪২৩৩

৫৬৯

৭৫

৮৩.৭

২৪

কানাডা

১১

৩২৭৪

652

৩৭০

৮২.২

২৬

কিউবা

১২

৯৭১

১০০

১৯২

৭৯.১

৮২

ভারত

৬২

৪১

১৪২৯

৬৮.৩5

৩০

 উপরের এই চিত্র থেকে কিছু বক্তব্য তৈরি হয়। কিউবা অর্থনৈতিক নিরিখে উন্নত দেশের সঙ্গে এক মাত্রায় বিবেচিত না হলেও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিচারে উন্নত দেশ থেকেও এগিয়ে গেছে এবং বিশেষ ভাবে লক্ষণীয় যে -ব্যবস্থাটা সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থেই চলে। শ্রীলংকার কথা যদি ধরা যায় সেখানেও মানুষের স্বাস্থ্য-মানের মাত্রাগুলো উন্নত দেশের সমতুল্য। এটা একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং ভারতের থেকেও উচ্চ আয় সম্পন্ন নয়। ইউ এস এ তে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সরকারের ভূমিকা খুবই লক্ষণীয়, যেখানে অবস্থাটা বহুলাংশেই বেসরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করে সেখানেও সরকারকে একটা বড় মাত্রায় খরচ করতে হয় সাধারণের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে। জিডিপির হিসেবে স্বাস্থ্য খাতে ইউএসএ সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ করে। সরকার সরাসরি কোন হাসপাতাল তৈরি করে না চালালেও মেডিকেইড আর মেডিকেয়ার এই দুটো সরকারি প্রকল্পে চিকিৎসা খরচা মেটায়। যারা স্বল্পআয় ভুক্ত-স্বাস্থ্যবীমা করতে অক্ষম, ৬৫ উর্দ্ধ নাগরিক আর বিকলাঙ্গরা সরাসরি এই প্রকল্পাধীন হয়ে পড়ে। এতক্ষণে যে চিত্রটা পাওয়া যায় সে দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সরকারি ভূমিকা যত বেশি মাত্রায় হচ্ছে মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা ততই যথাযথ ও অনেক উন্নত হতে পারছে।