মন কাকে বলে মনে করতে পারেন ? একটা সরল প্রশ্ন -সহজভাবে বলতে গেলে, মন এমন এক কার্যকর সত্তা যার অস্তিত্বের ফলে আমরা বাইরের জগত থেকে পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রহণ করতে পারি, সেগুলো স্মৃতিতে সংরক্ষণ করতে পারি, সেই তথ্য নিয়ে চিন্তা–ভাবনা করতে পারি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা বাস্তবে প্রয়োগ করার দিকে এগোতে পারি। এই একই কার্যকারিতার মাধ্যমেই আমাদের মধ্যে আত্মসচেতনতা গড়ে ওঠে।আত্ম সচেতনতার অর্থ হচ্ছে পরিবেশের ভেতরে নিজের অস্তিত্বকে অনুভব করা, অস্তিত্বের সীমা ও নিজের সঙ্গে বাইরের জগতের সম্পর্ক নিয়ে সচেতন থাকতে পারা । মস্তিষ্কের বস্তুগত এবং কর্মের একক হচ্ছে নিউরন অর্থাৎ স্নায়ু কোষ ।সমস্ত স্নায়ু কোষ বা নিউরন একে অন্যকে স্পর্শ করে থাকলেও পারস্পরিক যোগাযোগ হয় বৈদ্যুতিক বা রাসায়নিক মাধ্যমে । রাসায়নিক মাধ্যমে যোগাযোগের জন্য রয়েছে নিউরো ট্রান্সমিটার যেমন ডোপামিন, সেরোটোনিন ইত্যাদি।এভাবে যে জটিল জালিকা বা নেটওয়ার্ক তৈরী হয় তার বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক যোগাযোগে সম্মিলিত কাজ’ই মনের অস্তিত্বকে সম্ভব করে তোলে । মনের ক্রিয়ার সবচেয়ে উন্নত রূপটি হলো কগ্নিশন। চলুন বাংলায় 'কগনিশন' শব্দটির সংজ্ঞা দেবার চেষ্টা করি, কারণ বাংলায় এর কোনো প্রতিশব্দ নেই । অনুভূতি স্মৃতি, চিন্তন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ কে এক সঙ্গে ধরলে তখন তাকে কগ্নিশন বলা যায় । কম্পিউটারের কাঠামোর সাথে তুলনা করলে এই দুটি কর্মকে সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায়। কম্পিউটারে প্রথমত ধাতব বা প্লাষ্টিক পদার্থ দিয়ে তৈরী একটি বস্তুর অবয়ব থাকে জেক আমরা হার্ড ওয়ার বলি যার মধ্যে তড়িৎচুম্বকীয় সংকেতে যুক্তি লেখা হয় জেক আমরা সফ্ট ওয়ার বলি। মূল সফ্ট ওয়ার টিকে বলা হয় অপারেটিং সিস্টেম যেমন মাইক্রোসফট বা লিনাক্সের ইত্যাদি। তার উপরে কম্পিউটারকে নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহার করার জন্য আমাদের ওয়ার্ড বা লিব্রে অফিস বা অনুরূপ অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনের প্রয়োজন হয়। কম্পিউটার ব্যবহার করার জন্য আমাদের কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারে এই দুটি জিনিসই চালু থাকতে হয়। একইভাবে, মন হলো একটি সম্পূর্ণ কার্যকরী রূপ বা অপারেটিং সিস্টেম কিন্তু কগনিশন না থাকলে এটি কাজ করতে পারে না।